Page Nav

HIDE

শিরোনাম:

latest

টিকটিকি হত্যা কি আসলেই সওয়াবের কাজ?

আমাদের সমাজে একটি সাধারণ ধারণা আছে যে, ঘরের দেয়ালে ঘুরে বেড়ানো টিকটিকি মারলে সওয়াব বা পুণ্য হয়। অনেকে এটিকে অন্ধবিশ্বাস অথবা কুসংস্কার মনে ক...



আমাদের সমাজে একটি সাধারণ ধারণা আছে যে, ঘরের দেয়ালে ঘুরে বেড়ানো টিকটিকি মারলে সওয়াব বা পুণ্য হয়। অনেকে এটিকে অন্ধবিশ্বাস অথবা কুসংস্কার মনে করেন, আবার অনেকে ধর্মীয় দায়িত্ব মনে করে টিকটিকি দেখলেই মারতে উদ্যত হন। আসলে ইসলাম এ বিষয়টি কী বলে?
 টিকটিকি হত্যা করা কি সত্যিই সওয়াবের কাজ? চলুন কোরআন, হাদিস এবং যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানি।

কোরআন ও হাদিসের আলোকে টিকটিকি নিধন পবিত্র কোরআনে টিকটিকি মারার বিষয়ে কোনো আয়াত নেই। তবে সহীহ হাদিসে টিকটিকি মারার নির্দেশনা ও সওয়াবের কথা রয়েছে। ইসলামে টিকটিকিকে ‘ফুওয়াইসিকা’ বা ক্ষতিকারক জীব হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

এই বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একাধিক হাদিস রয়েছে: ১০০ নেকির সওয়াব: সহীহ মুসলিমের একটি হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন— যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতে কোনো টিকটিকি মারবে, তার জন্য রয়েছে একশত সওয়াব। আর যে ব্যক্তি দ্বিতীয় আঘাতে মারবে, তার জন্য (প্রথম ব্যক্তি অপেক্ষা) কম সওয়াব। আর যে তৃতীয় আঘাতে মারবে, তার জন্য তার চেয়েও কম সওয়াব। (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং: ২২৪০) 

অন্য একটি হাদিসে টিকটিকি মারার একটি ঐতিহাসিক কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। উম্মে শারীক (রা.) থেকে বর্ণিত নবী করীম (সা.) টিকটিকি মারার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, সে ইব্রাহিম (আ.)-এর আগুনে ফুঁ দিয়েছিল।’ (সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৩৩০৭) 

অনেকের মনে প্রশ্ন হতে পারে, একটি ছোট জীবকে মারলে কেন এত সওয়াব দেওয়া হবে? ইসলাম কোনো কারণ ছাড়া কোনো জীবকে হত্যার নির্দেশ দেয় না। এর পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ রয়েছে:

 ১. এটি একটি বিষাক্ত ও ক্ষতিকারক জীব টিকটিকি দেখতে নিরীহ মনে হলেও এটি অত্যন্ত নোংরা ও বিষাক্ত। এর মলমূত্র বা লালা খাবারে পড়লে মারাত্মক ফুড পয়জনিং হতে পারে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, টিকটিকির গায়ে সালমোনেলা নামক ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে ডায়রিয়া, আমাশয় এবং টাইফয়েডের মতো রোগ ছড়ায়। 

২. প্রথম আঘাতে মারার রহস্য হাদিসে প্রথম আঘাতে টিকটিকি মারার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর কারণ হলো, প্রথম আঘাতে মারলে প্রাণীটি কম কষ্ট পায়। ইসলামে কোনো প্রাণীকে অপ্রয়োজনে কষ্ট দেওয়া নিষিদ্ধ। যদি মারতেই হয়, তবে যেন তা এক আঘাতেই দ্রুত শেষ করা হয়, যাতে প্রাণীটিকে নির্যাতন করা না হয়। ### একটি ভুল ধারণার অবসান: সব টিকটিকি কি মারতে হবে? এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার। হাদিসে ‘ওয়াজাগ’ শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে, যার সঠিক অনুবাদ হলো ‘বিষাক্ত গিরগিটি’ বা ‘রক্তচোষা বিষাক্ত টিকটিকি’। আমাদের ঘরে সাধারণত যে ছোট ও নিরীহ টিকটিকিগুলো থাকে, সেগুলো যদি কোনো ক্ষতি না করে বা খাবারের আশপাশে না যায়, তবে সেগুলোকে দেখামাত্র তাড়া করে মারার জন্য ইসলামে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। মূলত যেগুলো মানুষের ক্ষতি করে, ঘরের পরিবেশ নোংরা করে বা খাবারে বিষ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে, সেগুলো মারার কথাই হাদিসে বলা হয়েছে। 

ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। টিকটিকি মারার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ক্ষতি থেকে বাঁচা। তাই আপনার ঘরে যদি টিকটিকির উপদ্রব বেশি হয়, যা আপনার খাবার বা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে, তবে তা দূর করা বা মেরে ফেলা অবশ্যই সওয়াবের কাজ। তবে তা করতে হবে কোনো নিষ্ঠুরতা ছাড়া, দ্রুত ও সহজ উপায়ে।

কোন মন্তব্য নেই

A Samam