Page Nav

HIDE

শিরোনাম:

latest

ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকার: একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা

ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকার: একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। সমস্ত প্রশংসা মহান রাব্বুল আলামিনের জন্য, যিনি...

ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকার: একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। সমস্ত প্রশংসা মহান রাব্বুল আলামিনের জন্য, যিনি মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান উপহার দিয়েছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর। আজকের প্রেক্ষাপটে নারী অধিকার এবং নারীর মর্যাদা একটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও বহুল আলোচিত বিষয়। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে নারীর অধিকার ও মর্যাদাকে এমন এক উচ্চতায় আসীন করেছে, যা ইতিপূর্বে কোনো ধর্ম বা সভ্যতা করতে পারেনি। প্রাক-ইসলামী যুগে যখন কন্যাসন্তানকে বোঝা মনে করা হতো এবং জীবন্ত কবর দেওয়া হতো, তখন ইসলাম এসে ঘোষণা করল যে, নারী কেবল ভোগের বস্তু নয়, বরং সে সম্মানের পাত্রী। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً অর্থাৎ: হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। (সূরা নিসা, আয়াত: ০১) এই আয়াতটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সৃষ্টির মূল বিচারে নারী ও পুরুষ সমমর্যাদার অধিকারী। ইসলাম নারীর জীবনকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে সম্মানীত করেছে: কন্যা হিসেবে, বোন হিসেবে, স্ত্রী হিসেবে এবং মা হিসেবে। একজন কন্যাসন্তানের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তির তিনটি বা দুটি কন্যাসন্তান থাকবে এবং সে তাদের সঠিক শিক্ষা ও আদব দিয়ে বড় করবে, আমি এবং সে জান্নাতে এই দুই আঙুলের মতো পাশাপাশি থাকব। স্ত্রী হিসেবে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে গিয়ে বিদায় হজের ভাষণে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا অর্থাৎ: তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণের নসিহত গ্রহণ করো এবং তাদের সাথে সদাচরণ করো। তিনি আরও বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর নিকট সর্বোত্তম। মায়ের মর্যাদা দিতে গিয়ে ইসলাম যা বলেছে তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: الْجَنَّةُ تَحْتَ أَقْدَامِ الْأُمَّهَاتِ অর্থাৎ: জান্নাত মায়ের পায়ের নিচে। একজন সাহাবী যখন জিজ্ঞাসা করলেন, আমার সদাচরণের সবচেয়ে বেশি হকদার কে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনবার 'মা' এর কথা বললেন এবং চতুর্থবার 'বাবা'র কথা বললেন। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে অপপ্রচার চালানো হয় যে, ইসলাম নারীকে চার দেয়ালের মাঝে বন্দি করে রেখেছে। এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। ইসলাম নারীর শিক্ষা, অর্থনৈতিক অধিকার এবং সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার নিশ্চিত করেছে। সূরা নিসায় আল্লাহ তায়ালা পরিষ্কারভাবে নারীর সম্পত্তির অংশ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন সমকালীন শ্রেষ্ঠ জ্ঞানীদের একজন, যা প্রমাণ করে যে নারীর জ্ঞানার্জনে ইসলামের কোনো বাধা নেই। তবে ইসলাম নারীকে যে মর্যাদা দিয়েছে, তার অন্যতম একটি অনুষঙ্গ হলো শালীনতা ও পর্দা। পর্দা নারীকে বন্দি করার জন্য নয়, বরং তাকে নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা দেওয়ার জন্য। একটি মূল্যবান রত্ন যেমন সাবধানে রাখতে হয়, তেমনি নারীর সম্মান রক্ষার্থেই আল্লাহ তায়ালা পর্দার বিধান দিয়েছেন। পরিশেষে বলতে চাই, একটি সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নারীর ভূমিকা অপরিসীম। নারী ও পুরুষ একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরিপূরক। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন: وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ অর্থাৎ: নারীদের ওপর যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি পুরুষদের ওপরও নারীদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে। (সূরা বাকারা, আয়াত: ২২৮) আসুন, আমরা আমাদের ঘরে এবং বাইরে নারীদের প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করি। তাদের শিক্ষা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে সচেতন হই। ইসলাম আমাদের যে আদর্শ শিখিয়েছে, তা ব্যক্তিজীবনে প্রয়োগ করার মাধ্যমে একটি শান্তিময় সমাজ গড়ে তুলি। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন। আমিন।

কোন মন্তব্য নেই

A Samam

জনপ্রিয় পোস্ট