Page Nav

HIDE

শিরোনাম:

latest

ইসলামে কুকুর পালন: শরিয়তের বিধান ও প্রাসঙ্গিক কিছু জিজ্ঞাসা

ইসলামে কুকুর পালন: শরিয়তের বিধান ও প্রাসঙ্গিক কিছু জিজ্ঞাসা   বর্তমান সময়ে আধুনিক জীবনযাত্রার অনুষঙ্গ হিসেবে শখের বসে অনেকেই বাড়িতে কুকুর প...

ইসলামে কুকুর পালন: শরিয়তের বিধান ও প্রাসঙ্গিক কিছু জিজ্ঞাসা 

 বর্তমান সময়ে আধুনিক জীবনযাত্রার অনুষঙ্গ হিসেবে শখের বসে অনেকেই বাড়িতে কুকুর পালন করতে চান। তবে মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এবং ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী এটি কতটুকু অনুমোদিত, তা নিয়ে জনমনে নানাবিধ প্রশ্ন ও কৌতূহল রয়েছে। ইসলাম কি কেবল শখের বশে কুকুর পালনের অনুমতি দেয়? নাকি এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে? মুফতি ও ইসলামি স্কলারদের মতে, ইসলামে কুকুর পালনের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত। 

 প্রয়োজন বনাম বিলাসিতা ইসলামি আইন বা শরিয়তের ভাষ্যমতে, কোনো প্রয়োজন ছাড়া কেবল শখের বশে বা বিলাসিতা প্রদর্শনের জন্য ঘরের ভেতর কুকুর রাখা জায়েজ নেই। তবে নির্দিষ্ট কিছু প্রয়োজনে কুকুর পালনের স্পষ্ট অনুমতি ইসলামে দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাদিসের আলোকে তিনটি বিশেষ কারণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে: 

 ১. শিকারের জন্য। ২. গবাদি পশু পাহারার জন্য। ৩. কৃষিজমি বা ফসলের পাহারার জন্য। 
 পরবর্তীতে অধিকাংশ ফকিহ ও আলেম বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঘরবাড়ি, দোকান বা জানমালের নিরাপত্তার প্রয়োজনেও পাহারাদার হিসেবে কুকুর পালনকে বৈধ বলে মত দিয়েছেন। সওয়াব কমে যাওয়ার সতর্কতা সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফের একাধিক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, 

নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন—যে ব্যক্তি শিকার বা গবাদি পশু রক্ষা অথবা ক্ষেত-খামারের রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া অন্য কোনো কারণে কুকুর পালন করে, প্রতিদিন তার আমলনামা থেকে এক বা দুই কিরাত (বিশাল এক পাহাড় পরিমাণ) সওয়াব হ্রাস পায়।’ ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, সওয়াব কমে যাওয়ার এই কড়া হুঁশিয়ারি প্রমাণ করে যে, অপ্রয়োজনে কুকুর পালন ইসলামে অপছন্দনীয় বা মাকরুহ। 

 পবিত্রতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি ইসলামে কুকুর পালনের ক্ষেত্রে কঠোরতার একটি প্রধান কারণ হলো ‘পবিত্রতা’। কুকুরের লালা ও মলমূত্র নাপাক হিসেবে গণ্য করা হয়। হাদিসের নির্দেশ অনুযায়ী, যদি কোনো কুকুর কোনো পাত্রে মুখ দেয়, তবে সেটিকে সাতবার ধুতে হয় এবং একবার মাটি দিয়ে ঘষতে হয়। এছাড়া যে ঘরে কুকুর থাকে, সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না বলেও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতেও কুকুরের লালা ও লোম থেকে জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন ধরণের অ্যালার্জি ও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে, যা ইসলামের এই নির্দেশনার বৈজ্ঞানিক যৌক্তিকতাকে ফুটিয়ে তোলে।

 অমানবিকতা নয়, বরং প্রাণীর প্রতি দয়া কুকুর পালনে কড়াকড়ি থাকলেও ইসলামে এই প্রাণীর প্রতি কোনো ধরনের নিষ্ঠুরতা প্রদর্শনের সুযোগ নেই। কুকুরকে অকারণে কষ্ট দেওয়া, মারধর করা বা না খাইয়ে রাখা বড় গুনাহের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) এক তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে একজন পাপী ব্যক্তিকে জান্নাত দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং, পাহারার প্রয়োজনে কুকুর পালন করলেও তার খাদ্য ও আশ্রয়ের যথাযথ ব্যবস্থা করা এবং তার প্রতি সদয় হওয়া মালিকের দায়িত্ব। 

 উপসংহার সার্বিকভাবে, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী প্রয়োজন ছাড়া শখের বশে বাড়িতে কুকুর রাখা নিষিদ্ধ। তবে নিরাপত্তা বা পাহারার প্রয়োজনে কুকুর পালনের সুযোগ রয়েছে, যদি সেটিকে মূল বাসগৃহের বাইরে বা পৃথক কোনো স্থানে রাখা হয়। একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে বিশ্বাস ও শরিয়ত মেনে চলার পাশাপাশি প্রাণীর প্রতি মানবিক হওয়া এবং নিজের পবিত্রতা রক্ষা করার ভারসাম্য বজায় রাখাই ইসলামের মূল শিক্ষা।

কোন মন্তব্য নেই

A Samam